নামযের বরকত,জামাতের গুরুত্ব ও ফযীলত
নামযের বরকতঃ
যে বান্দা পাঁচবার আল্লাহ তাআলার সামনে
উপস্থিত হয়ে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে যায়, তাঁর গুনগান ও হামদ-সানা পড়ে, তার সান্নিধ্য নত
হয়, সিজদায় শির লুটিয়ে দেয়, তাঁর কাছে চায়,দুয়া করে, সে বান্দা আল্লাহ তাআলার বিশেষ
ভালোবাসা-মহাব্বত,রহমত ও দয়ার উপযুক্ত হয়ে যায়। প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের বদৌলতে
তাঁর গুনাহ মাফ হয়ে যায়।তার অন্তর জ্যোতির্ম্যয় হয়ে উঠে।জীবন্টা পাপের কালিমা থেকে
মুক্ত হয়ে প্রবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়।
একটি হাদীস হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার খুব চমৎকার এক উদাহরন দিয়ে ইরশাদ করেন-
একটি হাদীস হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার খুব চমৎকার এক উদাহরন দিয়ে ইরশাদ করেন-
বলতো ! যদি তোমাদের কারো বাড়ীর আঙ্গিনায়
একটি ন্দী প্রবাহিত হয় এর সে ঐ ন্দীতে পাঁচবার গোসল করে,তবে কি তাঁর শ্রীরে কোন
ধরনের ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? সাহাবায়ে কেরাম (রাযিঃ) বললেনঃ হুজুর ! কোন ময়লাই
অবিষ্ট থাকবে না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-দেখ ! পাঁচ
ওয়াক্ত নামাযও এমনই। আল্লাহ তাআলা এর বরকতে গুনাহ ও পাপসমুহকে নিশ্চিহ্ন করে
দেন।(বুখারী,মুসলিম)
![]() |
| জামাতের গুরুত্ব ও ফযীলত |
জামাতের
গুরুত্ব ও ফযীলতঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
হাদীসসমুহের থেকে বুঝা যায় যে,নামাযের আসল ফযীলত ও বরকত এবং পুরষ্কার ও মহিমা লাভ
করতে হলে জামাতের সাথে নামায পড়ার শর্তারোপ করা হয়েছে।
জামাতকে এত ভীষন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যে,
যারা অলসতাবশত নামাযের জন্য জামাতে উপস্থিত হয় না, তাদের সম্পর্কে প্রিয়নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকবর ইরশাদ করেন-
আমার মন চায় যে,আমি তাদের ঘরবাড়ীতে আগুন
ধরিয়ে দিই,যারা জামাতে উপস্থিত হয় না।(মুসলিম)
শুধু এই একটি হাদীস দারাই অনুমান করা যায়
যে,জামাত ত্যাগ করা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে
কি পরিমাণ নিন্দনীয়।
অন্য এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-
জামাতের সাথে নামায পড়ার সওয়াব আকা পড়ার সওয়াবের
সাতাশ গুন বেশী হবে।(বুখারী,মুসলিম)
জামাতের এই গুরুত্ব শুধু পুরুষদের
জন্য।হাদীসে স্পষ্ট বর্নিত হয়েছে যে,মহিলারা মসজিদের তুলনায় ঘরে নামায পড়লে বেশী সওয়াব
পাবে।
ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জামাতে নামায পড়ার
ফলে পরকালীন পুরষ্কার ছাড়াও পার্থি অনেক উপকার লাভ করা যায়।
১।মানুষ সময়ানুবর্তিতার গুন লাভ করে
২।প্রতিদিন পাঁচবার মহল্লার সব মুসলমান
ভাইদের সাথে দেখা-সাক্ষাত হয়।
৩।জামাতের দৃঢ়তার ফলে নামাযের পরিপূর্ন
দৃঢ়তা অর্জিত হয়
জামাতের নামায পড়ার আরেকটি উপকার হলো-
জামাতের সাথে নামায আদায়কারী প্রত্যেকের
নামায, জামাতের নামাযের একটি অংশে পরিণত হয়ে যায়।সেখানে আল্লাহর এমন নেককার ও সৎ
বান্দাগণও উপস্থিত থাকেন,যাদের নামায খুবই খুশ-খুযু(বিনয় ও আন্তরিকতা)
সমৃদ্ধ।আল্লাহ তাআলা তাদের নামায কবুল করেন।মহান আল্লাহ তাআলার মেহেরবান গুনের
প্রতি আমরা আশান্বিত যে,তিনি যখন জামাতের
কিছু সংখ্যক বান্দার নামায কবুল করবেন,তখন তাদের সাথে নামায আদায়কারী অন্য
বান্দাদের নামাযও কবুল করে নিবেন।যদিও তাদের নামায নেককারদের মতো না-ও-হয়।
ফরাসী কবির ভাষায়-
সৎ লোকের সাহচর্যের দরুন আল্লাহ তাআলা
পাপীদেরও ক্ষমা করে দেন।


No comments